ভূমিকম্পের ফলে থাইল্যান্ডের ৪৩তলা উচ্চতার একটি ভবন। সেখানে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
মিয়ানমারে আজ শুক্রবার পরপর দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশে এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৭০ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসি, ইরাবতী, রয়টার্স ও আনাদোলুর
মিয়ানমারের মান্দালয়ে উদ্ধারকারী দলের একজন সদস্য বিবিসিকে বলেছেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেশি। হতাহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি, তবে এটি শতাধিক।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর–উত্তরপশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ১০ কিলোমিটার গভীরে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ, ভারত, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং চীনে।
একজন উদ্ধারকর্মী বলেন, নামাজের সময় প্রায় তিনটি মসজিদ ধসে পড়ে। সেখানে অনেক মানুষ আটকা পড়ে। এতে অন্তত ২০ জন মারা গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুবাইয়াত কবীর সমকালকে জানিয়েছেন, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের পাশের দেশ মিয়ানমারের মান্দালয়। ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ৫৯৭ কিলোমিটার।
আনাদোলু জানিয়েছে, থাইল্যান্ডে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশি বাংলাদেশ ও চীনেও।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে নির্মাণাধীন একটি ৩০তলা ভবন ধসে ৭০ নির্মাণকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবনটি নিমিষেই ধসে পড়তে দেখা যায়। এ ছাড়া আরেকটি ভিডিওতে বহুতল ভবনের সুইমিং পুল থেকে পানি ছিটকে পড়তেও দেখা যায়।
কম্পনের সময় ব্যাংককের বাসিন্দারা উঁচু ভবন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় জড়ো হন। সেখানকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কম্পন যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। শহরটির কিছু মেট্রো এবং রেল পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। থাই প্রধানমন্ত্রী পেতোংটার্ন শিনাওয়াত্রা এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরে তিনি একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। এ কারণে তিনি দক্ষিণ দ্বীপ ফুকেটে একটি সরকারি সফর স্থগিত করেছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে অনেক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। সেগুলোতে আটকা পড়েছেন অনেকে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশ দু’টির সরকার।
ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারের ঔপনিবেশিক আমলের একটি সেতু ধসে পড়েছে। ভেঙে পড়া ৯১ বছর বয়সী আভা নামের সেতুটি ব্রিটিশদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। পুরাতন সাগাইং সেতু নামেও পরিচিত সেতুটি মান্দালয় এবং সাগাইং অঞ্চলের মধ্যে ইরাবতী নদীর ওপর বিস্তৃত।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় দেশটির রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। স্তব্ধ হয়ে পড়েছে জনজীবন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্দালয় প্রাসাদও। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার বহু ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোর একটি প্রধান হাসপাতালে বহু আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্কেও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ভবন ও সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।